কফিতে দুধ মিশিয়ে খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:৩২,২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি; সংগৃহীত
সকালে এক কাপ গরম কফি ছাড়া অনেকেরই যেন দিন শুরু হয় না। কেউ কড়া কফি পছন্দ করেন, আবার কেউ কফিতে দুধ-চিনি মিশিয়ে পান করেন। তবে কফিতে দুধ মেশানো নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন—এটি শরীরের জন্য উপকারী, নাকি ক্ষতিকর?
অনেকে মনে করেন, দুধ দিয়ে কফি খেলে ওজন বাড়ে বা হজমের সমস্যা হয়। আবার কারও কাছে দুধ মেশানো কফি তুলনামূলক আরামদায়ক। বিশেষজ্ঞদের মত ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কফির সঙ্গে কী পরিমাণ দুধ, চিনি ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হচ্ছে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে পানীয়টির প্রভাব।
দুধ মেশালে যে উপকার হতে পারে—
কফিতে থাকা ক্যাফেইন ও অম্লীয় উপাদান অনেকের ক্ষেত্রে খালি পেটে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটি তৈরি করতে পারে। কফিতে দুধ মেশালে এর তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। তাই যাদের কফি খেলে পেটে অস্বস্তি হয়, তাদের কাছে দুধ মেশানো কফি তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।
প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় কফিতে থাকা পলিফেনল এবং দুধের প্রোটিনের পারস্পরিক প্রভাব নিয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, পলিফেনল ও প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড একসঙ্গে কাজ করলে শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
বাড়ে পুষ্টিগুণ
শুধু কফির তুলনায় দুধ যোগ করলে পানীয়টিতে অতিরিক্ত পুষ্টি যুক্ত হয়। দুধ থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২। ফলে পরিমিত দুধ মিশিয়ে কফি খেলে শরীর কিছু অতিরিক্ত পুষ্টি পেতে পারে।
কখন দুধ কফি সমস্যা তৈরি করতে পারে?
দুধ কফি স্বাস্থ্যকর হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে কীভাবে কফিটি তৈরি করছেন তার ওপর।
কফিতে বেশি চিনি, মিষ্টি সিরাপ, ক্রিম বা অন্য মিষ্টি উপাদান যোগ করলে এর ক্যালরি দ্রুত বেড়ে যায়। নিয়মিত এমন কফি পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
আবার যাদের দুধের শর্করা হজমে সমস্যা হয়, তারা দুধ কফি পান করলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা পেটের অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। এমন ক্ষেত্রে দুধের বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। তাই দুধ মেশানো হয়েছে বলে ইচ্ছেমতো কফি পান করা নিরাপদ নয়।
ওজন বাড়তে পারে কখন?
কফিতে ফুল-ফ্যাট দুধ ও অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করলে পানীয়টির ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য নিয়মিত এমন কফি পান করা সমস্যার কারণ হতে পারে।
তাই কফি খেলে চিনির পরিমাণ কম রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করা ভালো।
দুধ কফি নাকি কালো কফি?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিমিত কফি সাধারণত খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। দুধ যোগ করলে কফিতে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম বাড়ে। তবে বেশি চিনি ও ক্রিম যোগ করলে ক্যালরিও বাড়ে।
আবার কালো কফিই যে সবার জন্য বেশি উপকারী, এমনটাও বলা যায় না। কফির সঙ্গে দুধ মেশালে কফির কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদানের কার্যকারিতায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণার ফল এখনো একেবারে একমত নয়।
তাই কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ এবং কফি তৈরির পদ্ধতি।
কার জন্য কোনটি?
যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, চিনি কমাতে চান বা কফির স্বাভাবিক স্বাদ পছন্দ করেন, তারা কালো কফি বেছে নিতে পারেন।
অন্যদিকে যারা কফির সঙ্গে কিছুটা প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পেতে চান কিংবা দুধ মেশানো কফি বেশি পছন্দ করেন, তারা পরিমিত দুধ দিয়ে কফি পান করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, দুধ দিয়ে কফি খাওয়া নিজে থেকেই ক্ষতিকর কোনো অভ্যাস নয়। তবে কফিতে কতটা দুধ, চিনি ও অন্যান্য উপাদান যোগ করছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত দুধ ও কম চিনি দিয়ে কফি খেলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য এটি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
অ্যাসিডিটি, দুধ হজমে সমস্যা বা ক্যাফেইনে সংবেদনশীলতা থাকলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে কফির পরিমাণ কমানো ভালো। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শহীদ
