জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:১৭,২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। এর ফলে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন দরে প্রতিটি জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় এত দিন দেশে দাম বাড়ানো হয়নি।
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের আর্থিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেছেন, দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও প্রায় পাঁচ মাস দেশে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেল পাচার রোধ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বিপিসির লোকসান কমাতে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেল বিক্রি করলে বিপিসির প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। এভাবে চলতে থাকলে বছরে লোকসান প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
জ্বালানি বিভাগের হিসাবে, লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপিসির আর্থিক চাপ কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
শহীদ
