১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ , সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার ৫৪৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজার জাঁকজমক প্রস্তুতি, বইছে উৎসবের হাওয়া

এস কে সরকার

প্রকাশ: ১৫:৫৫,৩ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার ৫৪৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজার জাঁকজমক প্রস্তুতি,  বইছে উৎসবের হাওয়া

ছবি: নিউজমিশন২৪

আর মাত্র কয়েকদিন পর বাজতে যাচ্ছে ঢাকের কাঠি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনা জেলাজুড়ে এখন চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা শিল্পী ও ডেকোরেশন কারিগররা দিনরাত পার করছেন ব্যস্ত সময়। অন্যদিকে জেলা ও উপজেলার শপিংমল, পোশাক, শাড়ি, জুতা এবং প্রসাধনীর দোকানগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে কেনাকাটার ভিড়। বাদ্যযন্ত্রের দোকানে চলছে ঢাকসহ নানা সরঞ্জাম মেরামতের কাজ। সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে এখন বইছে আনন্দের আমেজ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন পণ্ডিত জানান, এ বছর জেলার ১০টি উপজেলায় পারিবারিক ও সর্বজনীন মিলিয়ে মোট ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। এর মধ্যে কেবল জেলা সদরেই (পৌর এলাকায়) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৮টি পূজা। আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের কারণে শহরের মণ্ডপগুলোতে এবারও বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

সরজমিনে জেলা শহরের কালীবাড়ি, ‘এসো পূজা করি’, ‘চলো পূজা করি’, ‘মাতৃসংঘ’ ও ‘বনানী সংঘ’সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা প্রতিমার কাঠের কাঠামো ও মাটির প্রাথমিক রূপদানের কাজ শেষ করেছেন। এখন চলছে রং, পোশাক ও অলংকার পরানোর সূক্ষ্ম কাজ।

তবে উপকরণের দাম বাড়ায় নির্মাণ ব্যয় নিয়ে চিন্তিত কারিগররা। প্রশান্ত পাল ও রণজিৎ পাল নামের দুই শিল্পী জানান, কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দামের কারণে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রতিমা নির্মাণ খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে সেই তুলনায় বাড়েনি পারিশ্রমিক। অর্ণব পাল নামের আরেক কারিগর বলেন, ‘একটি প্রতিমা তৈরিতে যে পরিমাণ শ্রম ও নিষ্ঠা দিতে হয়, সে অনুপাতে মজুরি পাই না। কিন্তু মা দুর্গার প্রতি ভক্তি, আয়োজকদের অনুরোধ আর অনুরাগের টানেই এ কাজ করে যাচ্ছি।’

জানা গেছে, মণ্ডপগুলোতে বৈচিত্র্য আনতে কারিগররা ভিন্ন ভিন্ন ‘থিম’ বা ভাবনা অনুসারে প্রতিমা ও প্যান্ডেল সাজাচ্ছেন। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি চলছে প্যান্ডেল ডেকোরেশন ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের তোড়জোড়। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে এবার অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

পূজা আসন্ন হওয়ায় কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অনুদান সংগ্রহ করছেন। আয়োজকরা জানান, একটি সর্বজনীন পূজার পেছনে ন্যূনতম তিন থেকে পাঁচ-ছয় লাখ টাকার বাজেট করতে হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি, ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা ও ব্যান্ডপার্টির খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় বাজেটের আকারও বড় করতে হচ্ছে।

এদিকে পূজার কেনাকাটাকে ঘিরে জমে উঠেছে শহরের বিপণিবিতানগুলো। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি। তবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বেচাকেনায় বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শহরের বড় বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন সাহা বলেন, ‘ঈদ আর পূজার ব্যবসার জন্য আমরা সারাবছর অপেক্ষা করি। তাই এই সময়ে অবশ্যই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যু থাকা দরকার।’ 

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন পণ্ডিত বলেন, ‘উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সজাগ থাকবে বলে আশা করছি।’

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম জানান, ‘পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং মোতায়েন থাকবে ভ্রাম্যমাণ টহল টিম। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

শহীদ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: