এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ
মোঃ শহিদুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর
প্রকাশ: ১৮:৫৫,৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: নিউজমিশন২৪
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর হেফাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বাড়তি ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির পাসের হার ছিল মাত্র ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আজাদ, মো. মুকুট, মো. শরিফুল, মো. মোশারফ ও শেখ ফরিদ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বাড়তি ক্লাস নেন। এসব ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ক্লাসের নামে অর্থ নিচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন অনেক অভিভাবক। তাঁদের মতে, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে বাড়তি ক্লাসের জন্য আলাদা অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা কমে আসত।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, পাঠ্যক্রম অনুসরণ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দিকে কর্তৃপক্ষের আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম কার্যকর করা জরুরি বলেও মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশারফ করিম বাড়তি ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো করার স্বার্থে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই এসব ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিক্ষকরা বাড়তি ক্লাস নেন, বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের কিছু দেবেই। যদি এটি সমস্যা হয়, তাহলে আমি বন্ধ করে দেব।” বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হলে শিক্ষকেরা দায়ী নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রাইভেট বা বাড়তি ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি প্রচলিত সরকারি বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ক্লাসের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
শহীদ