১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ , শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জে বাস ধর্মঘটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

প্রকাশ: ০৭:১৮,২ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জে বাস ধর্মঘটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

ছবি: নিউজমিশন২৪

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা এবং পরিবহন শ্রমিকদের মারধর ও নির্যাতনের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে। হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের ডাকে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ব্যাটারী চালিত টমটম ও রিক্সা চলাচল করছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে অনেককে ট্রেনসহ বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের ডাকে জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট নেতারাও ধর্মঘটে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে পরিবহন শ্রমিকদের মারধর এবং বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জের তিনটি বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হলেও পরে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের নিয়মে বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাসের কোনো স্টপেজ থাকবে না। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বাস চলাচল করছিল।

এরপর ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই পক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হলে আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে বলে দাবি করেন আবু মঈন চৌধুরী সোহেল। তার অভিযোগ, ওই বাসগুলো এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে দাবি আদায় ও বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তবে হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন।

তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যে হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুেেপর লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং একজন আইসিইউতে আছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আব্দুর রহিম রিপন আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
এদিকে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে ধর্মঘট শুরু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও সিলেটসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার জন্য আসা যাত্রী মহিন মিয়া বলেন, মৌলভীবাজারে তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। বাস বন্ধ থাকায় গন্তব্যে না গিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
যাত্রী সখিনা খাতুন বলেন, শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য এসে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। যাত্রী কামাল মিয়া বলেন, বাস না পেয়ে ট্রেন যোগে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বাস বন্ধ থাকায় কামাল মিয়া, সখিনা ও মহিনের ন্যায় শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।  

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। এ সময় কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তারা ট্রেনে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

 

শহীদ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: