২০ আশ্বিন ১৪৩৩ , মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রিজনভ্যান থেকে পিচ্ছি রাজা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ৩ 

রৌদ্র মুশফিক, গাজীপুর  

প্রকাশ: ১৯:২২,৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রিজনভ্যান থেকে পিচ্ছি রাজা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ৩ 

ছবি: নিউজমিশন২৪

ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারে আনার পথে দুর্ধর্ষ আসামি পিচ্ছি রাজা (৩৪) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও পিচ্ছি রাজার বোনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরা হলেন- প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্ছি রাজার বোন তাসলিমা। 

সোমবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংএ এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার। 
তিনি বলেন, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে আদালত থেকে পিচ্ছি রাজাসহ ২৯ আসামিকে স্কট করে গাজীপুরে কাশিমপুর কারাগারে আনার পথে কাশিমপুর কারাগারের হাজতী বন্দি রাজা বাদশা পিচ্চি রাজা কৌশলে পালিয়ে যায়। এ সংক্রান্তে কোনাবাড়ী থানার মামলা হয়। 

জিএমপি ডিবি (দক্ষিণ) বিভাগের ইন্সপেক্টর সৈয়দ মিজানুর ইসলাম কে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। 

তদন্তকারীদল বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তদন্তে এজাহারে বর্ণিত তথ্যের মধ্যে গরমিল পাওয়া যায়। তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, ২৯ জন আসামি নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট হতে স্কট পার্টি প্রিজনার ভ্যানে রওনা দিয়ে তাঁতী বাজার পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে এসে প্রিজনার ভ্যান থামিয়ে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনার ভ্যানের চাবি নিয়ে আসামি পিচ্চি রাজা ও হাজতী আসামি খাইরুল বাশারকে বের করে ভ্যানের সামনের দিকে নিয়ে যায় এবং আসামি খাইরুল বাশার প্রিজনার ভ্যানের ড্রাইভারের সিটের পাশে বসে। কিন্তু পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রিজনার ভ্যানে উঠে না। মূলত সেখান থেকে অপেক্ষমান একটি প্রাইভেটকারে আসামি পিচ্চি রাজা পালিয়ে যায়। 

পরবর্তীতে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বাইমাইল এলাকা থেকে প্রিজন ভ্যানে উঠেন এবং ভট পার্টির সদস্যদের নিয়ে আসামি পিচ্ছি রাজা প্রশ্রাব করতে গিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় বলে একটি ঘটনা সাজান। তদন্তেপ্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেফতার করেন। 

তিনি আরো জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাসা থেকে পুলিশ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। ঘটনার সময়ে প্রিজন ভ্যানে থাকা অন্য তিনজন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আসামি যে স্থান থেকে পালিয়ে গেছেন বলে প্রথমে বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পালানোর স্থান নিয়ে সাময়িক বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যরা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ৩০টির মতো মামলা রয়েছে।  প্রেস ব্রিফিংয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

শহীদ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: