৯ আশ্বিন ১৪৩৩ , শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাড়ছে সেচ খরচ, চাপে আমন চাষিরা

সৈয়দ এনামুর রকির, ইসলামপুর, জামালপুর

প্রকাশ: ০১:২৫,২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাড়ছে সেচ খরচ, চাপে আমন চাষিরা

ছবি: নিউজমিশন২৪

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার আমন চাষিদের ওপর। আমন মৌসুমের মাঝপথে ডিজেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে সেচের খরচ। বাড়তি ব্যয়ের কারণে অনেক কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে পারছেন না। কোথাও কোথাও পানির অভাবে আমনখেতের মাটি ফেটে যাচ্ছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার ২৯৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়েছে। এসব ফসলের উৎপাদনে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হওয়ায় ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে বাড়তি চাপে পড়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার অনেক কৃষক ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ। বাড়তি ব্যয় সামলাতে কেউ কেউ সেচের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। আবার কোথাও সেচ বন্ধ থাকায় জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

পলবান্ধা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক শরিফ মিয়া ও সাইদুর মন্ডলসহ কয়েকজন কৃষক জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় আগের তুলনায় সেচের খরচ বেড়েছে। আমন ধানের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত এই ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উত্তর সিরাজাবাদ এলাকার কৃষক শরিফ উদ্দিন ও সুরুজ আলী বলেন, সেচের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে পানি দিতে পারছেন না। তাঁরা এখন বৃষ্টির আশায় রয়েছেন। পর্যাপ্ত সেচ না দেওয়ায় ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফলন কমে গেলে উৎপাদন খরচ ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কৃষকেরা জানান, সেচের পাশাপাশি সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের খরচও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দূরবর্তী এলাকা থেকে সার ও কৃষি উপকরণ পরিবহনেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ধানের দাম সে অনুযায়ী না বাড়লে মৌসুম শেষে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষকদের দাবি, আমন চাষ স্বাভাবিক রাখতে সেচের খরচ সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং কৃষি উপকরণ পরিবহন ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, কম খরচে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মাধ্যমে জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব। কৃষকদের সাশ্রয়ী ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাড়তি সেচ খরচের চাপে আমন চাষিরা রয়েছেন। সময়মতো সেচ না পেলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকেরা যাতে কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তুলতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শহীদ

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: