১০ আশ্বিন ১৪৩৩ , শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা বাজারে, বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৫৮,২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা বাজারে, বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের খরচে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। এর প্রভাবে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। ডিম, সবজি, মাছ ও মাংসের বাজারে পড়েছে এর প্রভাব।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও কয়েক ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। শিং মাছ কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ৫০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। কই, পাবদা, চিংড়ি, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও রুই মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে।
 
মাছ বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ের দামে।

মুরগির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি হাইব্রিড সোনালি মুরগির দামও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। অন্যদিকে গরুর মাংসের দামেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ডিমের বাজারে উল্টো চিত্র। ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কয়েক ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। চার দিন আগে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ১০০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পটোল, কাঁকরোল ও বরবটির দামও বেড়েছে। আগে এসব সবজি ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। উৎপাদনস্থল থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা বাজার—প্রতিটি ধাপেই বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে।

এদিকে বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহও কমেছে। পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম ছিল। দাম বাড়ানোর পর কিছুদিন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও এখন আবার তা কমেছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, কোম্পানিগুলো বাজারে তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরও কিছুটা বাড়াতে চায়। তবে সব বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ একইভাবে কমেনি।

সব মিলিয়ে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও সবখানেই যে একই চিত্র, তা নয়। মাছের কয়েকটি ধরন ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমায় ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে সবজি ও ডিমের বাড়তি দাম সেই স্বস্তিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দিচ্ছে না।

শহীদ

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: