ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কারাবন্দি প্যারাগুয়ের প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:০১,৭ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাতের একটি ভয়াবহ জালিয়াতি ও তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে আকস্মিক পতন হয়েছে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার। পার্লামেন্টে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পেনার পতনের পর শুক্রবার দেশটির ৫৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন দেশটির সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা।
দীর্ঘকাল ধরে প্যারাগুয়ের ক্ষমতায় থাকা ‘কলোরাডো পার্টি’র সদস্য সান্তিয়াগো পেনার এই পতন ঘটেছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে।
গত বৃহস্পতিবার দেশটির নিম্নকক্ষ চেম্বার অব ডেপুটিসে ৭৮-০ ভোটে তার ইমপিচমেন্ট পাস হয়। এরপর শুক্রবার ৪৫ সদস্যের সেনেটে ৪৪ জন সেনেটর তাকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন।
মূলত পেনা নিজে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে সেনেটর পদমর্যাদার আইনি সুরক্ষা পেতে চেয়েছিলেন, যেন তার বিরুদ্ধে বিচার না হয়। কিন্তু তার দল কলোরাডো পার্টিসহ বিরোধিরা সেই পদত্যাগপত্র নাকচ করে সরাসরি অভিশংসনের পথ বেছে নেয়, যাতে তিনি আইনি দায়মুক্তি থেকে বাঁচতে না পারেন। অপসারণের পরপরই প্রসিকিউটররা পাবলিক ট্রাস্ট ভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর তাকে নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়।
এই পুরো রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘উয়েনো ব্যাংক’-এর আকস্মিক ধস। গত মঙ্গলবার প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, উয়েনো ব্যাংক তাদের তারল্য বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ৩০ লাখ সাধারণ গ্রাহক রাতারাতি তাদের অ্যাকাউন্ট ও পেনশন পেমেন্টের অ্যাক্সেস হারিয়ে ফেলেন। ব্যাংকটিতে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের সরকারি অর্থ এবং ৩৫ কোটি ডলারের বেশি স্টেট পেনশন ফান্ড বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনা ২০২৩ সালে এই ব্যাংকের মূল কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ছিলেন (যদিও তিনি দাবি করেন ২০২৫ সালের শুরুতে তিনি শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন)। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকটিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় উয়েনো ব্যাংকের প্রধান শেয়ারহোল্ডার মিগুয়েল ভাসকুয়েজ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্য পদত্যাগকারী প্রধান কার্লোস কারভাল্লোসহ অন্তত ২৭ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ, তহবিল তছরুপ ও প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
প্যারাগুয়ের ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন নতুন প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা। এর আগে তিনি নেয়েমবুকু বিভাগের গভর্নর এবং দীর্ঘ সময় নিম্নকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভেঙে পড়া ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন এবং চরম আস্থাহীনতায় ভোগা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন ৫২ বছর বয়সি নতুন এই নেতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনা বলছেন, তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এমনকি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
শহীদ