জামালপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ১১ বাইক
আজিজুর রহমান ডল, জামালপুর
প্রকাশ: ১৯:৪০,১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: নিউজমিশন২৪
জামালপুর ও শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে চলা এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেয় জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিনের দিকনির্দেশনায় ডিবির উপপরিদর্শক মো. সোহাগ রানা এবং উপপরিদর্শক মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর জামালপুর সদর থানায় দায়ের করা একটি চুরির মামলার সূত্র ধরে পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়। তদন্তে জানা যায়, চক্রের সদস্য নীরব হোসেন বিভিন্ন স্থান থেকে সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেল চুরি করতেন। এরপর আরেক সদস্য আবু বকর সিদ্দিকের মাধ্যমে সেসব চোরাই বাইক জামালপুর, মেলান্দহ, শেরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জামালপুর সদর, মেলান্দহ, শেরপুর সদর ও শ্রীবরদী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জামালপুর সদরের নীরব হোসেন, মাহফুজ আহমেদ ও রবিউল ইসলাম সোহাগ, মেলান্দহের মো. বরকতউল্লাহ ওরফে সবুজ ও আবু বকর সিদ্দিক, শেরপুর সদরের মো. ওমর ফারুক এবং শ্রীবরদীর মো. সাদ্দাম হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও আমির হোসেন।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বাজাজ ডিসকভার, টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর, হিরো হাঙ্ক ও বাজাজ পালসার মডেলের মোট ১১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত প্রতিটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর মিলিয়ে প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের কাজ চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এসব মোটরসাইকেল তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুরো অভিযানটি নিয়ে পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মোটরসাইকেল চুরি সাধারণ মানুষের জন্য কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি তাদের নিরাপত্তাবোধ ও আস্থার ওপরও বড় ধরনের আঘাত। এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার ও বাইকগুলো উদ্ধার করা পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টার ফল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা করাও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। তাই বৈধ কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করে তবেই পুরনো মোটরসাইকেল কেনার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন।
সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, জনগণের সহযোগিতায় এই চক্রের পলাতক বাকি সদস্যদেরও খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শহীদ