১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ , বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬

এক নির্মম হত্যা মামলার আসামী যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিন

এনামুর রাকিব, ইসলামপুর, জামালপুর

প্রকাশ: ০৭:৪২,৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক নির্মম হত্যা মামলার আসামী যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিন

ছবি: নিউজমিশন২৪

জামালপুরের ইসলামপুরে পারিবারিক কলহ ও শারীরিক নির্যাতনের জেরে মঞ্জুয়ারা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে আদালতে একটি সি.আর মামলা (নং- ৮০৯(১)/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন (৪০)-সহ ১১ জন নামীয় এবং আরও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।  

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ (১১ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) শনিবার সকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকার সময় ইসলামপুর থানাধীন ৪নং চর এলাকায় ৩নং আসামীর বসতবাড়ীর উঠানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট: মামলার বাদী ও নিহতের মাতা মোছাঃ রিনা খাতুন অভিযোগ করেন, আনুমানিক ১৪-১৫ বছর আগে তার কন্যা মঞ্জুয়ারা খাতুনের সাথে ৩নং আসামীর বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। ছোট সন্তান আশিফের বয়স ১২ দিন থাকাকালীন ১নং আসামী (মোঃ লোকমান) তাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১নং আসামী ১ম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ৫নং আসামীকে ২য় বিবাহ করেন। এরপর থেকে ৫নং আসামী শিশু আশিফের ওপর নির্যাতন শুরু করলে নিহত মঞ্জুয়ারা খাতুন এর প্রতিবাদ জানান। এরই জেরে আসামীরা সংঘবদ্ধভাবে মঞ্জুয়ারার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।  

ঘটনার দিন আসামীরা শিশু আশিফকে মারধর করলে মঞ্জুয়ারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা একযোগে মঞ্জুয়ারা খাতুনকে আক্রমণ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, 
৭নং আসামীর হুকুমে ১নং আসামী কাঠের চলা দিয়ে মঞ্জুয়ারার মাথায় সজোরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।   ২নং আসামী তার কণ্ঠনালী চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং ৯নং আসামী চুল ধরে উঠানে টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়।  ৩নং আসামী বাঁশের ফাল্টা দিয়ে উরুতে পিটিয়ে জখম করে এবং ৪নং আসামী কিল-ঘুষি ও লাথি মারে।   ১০নং আসামী মোঃ হামিদুর রহমান মলিন (৪০) বাঁশের বাতি (বাশের পাঠি) দিয়ে নিহতের কপালে ও ডান কাঁধে সজোরে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন।  পরবর্তীতে ৫, ৮, ১০ ও ১১নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা ভিকটিমকে বাঁশের শলার ঝাড়ু, রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং যৌনাঙ্গে লাথি মেরে নির্মম নির্যাতন চালায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই মঞ্জুয়ারা খাতুন মৃত্যুবরণ করেন।  

হত্যার পর আসামীরা নিহতের গলায় রশি লাগিয়ে লাশ ব্রক্ষপুত্র নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের বাধায় তারা লাশ উঠানে ফেলে রেখে আনন্দ-উল্লাস করতে থাকে বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়।  
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা লাশ দাফন করেন।  

বাদী পক্ষের দাবি, ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নিহতের মা মোছাঃ রিনা খাতুন বাদী হয়ে বিজ্ঞ সি.আর আমলী আদালত, ইসলামপুর, জামালপুরে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

শহীদ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: