আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একই সঙ্গে চলবে না: হাইকোর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:০৯,২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
একাধিক ফৌজদারি মামলায় পৃথকভাবে দণ্ডিত হলে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর বা গণনা করার সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, পৃথক মামলায় সাজা দেওয়ার সময় বিচারিক আদালতের রায়ে যদি সাজা ‘একই সঙ্গে চলবে’—এমন নির্দেশনা না থাকে, তাহলে একটি মামলার সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মামলার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে।
চেক ডিজঅনারের ছয়টি পৃথক মামলায় দণ্ডিত এক আসামির সাজা ভোগ ও কারাগারে আটক রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রুল খারিজ করে এ রায় দেন বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনারের ছয়টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে অন্য মামলাগুলোতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নির্ধারিত সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাসির উদ্দিন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ১১ এপ্রিল আদালত রুল জারি করে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
রিটের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, বিচারাধীন অবস্থায় নাসির উদ্দিন কারাগারে ছিলেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী ওই হাজতবাসের সময় মূল সাজা থেকে বাদ দিলে তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য মামলায় পুনরায় দণ্ডিত হলে আদালত স্পষ্টভাবে সাজা একই সঙ্গে চলার নির্দেশ না দিলে একটি সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সাজা শুরু হবে।
আলোচ্য মামলাগুলোতে বিচারিক আদালত সাজা একই সঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ দেননি। ফলে হাইকোর্ট প্রতিটি মামলার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে বলে মত দেন।
রায়ে আরও বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী কোনো আসামি বিচার চলাকালে যে নির্দিষ্ট মামলায় কারাভোগ করেছেন, কেবল সেই মামলার মূল সাজা থেকে ওই সময় বাদ যাবে। এক মামলায় হাজতবাসের সময় অন্য মামলার সাজা থেকে সমন্বয় করার সুযোগ নেই।
হাইকোর্ট আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া রিট এখতিয়ারে কোনো ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করে বিচারিক আদালতের রায়ে সরাসরি হস্তক্ষেপও করা যায় না।
দুই পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট রিটের রুল চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দেন।
শহীদ