২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ , সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভুল ড্রপ ব্যবহারে চোখের দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা

মো.শহিদুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর

প্রকাশ: ১৯:২০,১১ অক্টোবর ২০২৬

ভুল ড্রপ ব্যবহারে চোখের দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা

ছবি: নিউজমিশন২৪

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ভুল ড্রপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ঐ ড্রপ ব্যবহারের পর ৫৫ বছর বয়সী সাকোয়াত হোসেনের চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং চোখ সাদা হয়ে যায় বলে দাবি তাঁর পরিবারের। পরে জামালপুরের একটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। কিন্তু অর্থাভাবে সেই চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সাকোয়াত হোসেন দেওয়ানগঞ্জ উ ‍ৃৃজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সাকোয়াতের চোখের জন্য ড্রপ আনতে চেংটিমারি কমিউনিটি ক্লিনিকে যান তাঁর স্ত্রী। এ সময় ক্লিনিকে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মোছা. বানেছা খাতুন তাঁকে জেনশন ভায়োলেট নামের একটি ড্রপ দেন।

পরিবারের দাবি, বাড়িতে ফিরে স্বামীর চোখে ওই ড্রপ ব্যবহারের পরপরই জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং চোখ সাদা হয়ে যায়। পরে ড্রপটি নিয়ে ক্লিনিকে গেলে পায়ের কড়া বা কুনিতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জেনশন ভায়োলেট ড্রপ ভুল করে দেওয়া হয়েছে বলে বানেছা খাতুন জানান। এরপর সেটি পরিবর্তন করে ক্লোরাফিলিন নামের একটি আই ড্রপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন সাকোয়াতের স্ত্রী।

সাকোয়াতের স্ত্রীর দাবি, প্রথমবার দেওয়া ড্রপটি চোখে একবার ব্যবহারের পরই তাঁর স্বামীর চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে পরিবর্তন করে দেওয়া আই ড্রপটি তাঁদের কাছে রয়েছে। তবে প্রথমে দেওয়া জেনশন ভায়োলেট ড্রপটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

তাঁকে দুটি ড্রপ দেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে সাকোয়াতের স্ত্রী বলেন, তিনি একটি ড্রপই এনেছিলেন। তাঁদের হাত-পায়ে কোনো সমস্যা না থাকায় ঐ ড্রপ দিয়ে কী করবেন, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চোখের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সাকোয়াত হোসেন কে জামালপুর চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। এতে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১১ অক্টোবর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মোছা. বানেছা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে বানেছা খাতুন দাবি করেন, তিনি সাকোয়াতের স্ত্রীর কাছে দুটি পৃথক ড্রপ দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি তাঁর রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বরের রেজিস্টার খাতায় সাকোয়াত হোসেনের স্ত্রী মোছাঃপঞ্চমালার নামে একটি ড্রপ দেওয়ার তথ্য রয়েছে এবং তার স্বামী মোঃসাকোয়াত হোসেন এর নামে আরো একটি ড্রপ এর রেজিস্টার করা রয়েছে।তিনি আরো দাবি করেন, তিনি আরো বলেন,সাকোয়াত এর স্ত্রীর বিশেষ অনুরোধে তার স্বামী না এসোও তার জন্য ড্রপ নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ভুলভাবে ড্রপ ব্যবহার করলে তার দায়ভার কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর চাপানো উচিত নয়।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও স্বাস্থ্যকর্মীর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে বানেছা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোন ব্যক্তি স্বাস্থ্য ক্লিনিকে না এসে তার জন্য ঔষধ নেওয়া আইনসঙ্গত কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আইন বহির্ভূত কাজ। কোনক্রমেই কমিউনিটি ক্লিনিকে কেউ না এসে ঔষধ নিতে পারবেন না। 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি সাকোয়াত হোসেনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

শহীদ

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: