জাপানপ্রবাসীর ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন যুবদল নেতার
নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর
প্রকাশ: ১৯:১২,১৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জাপান প্রবাসী এক নারীর ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান মিজান। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নালিতাবাড়ীর আড়াইআনী বাজারে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। তিনি পৌর এলাকার নিজপাড়ার বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান বলেন, জাপান প্রবাসীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জান্নাতুল নাঈম নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘অন্তর সরকার’ পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ১৮ লাখ টাকা ও আইফোন নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিজানুর রহমানের ভাষ্য, পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলে প্রবাসীর সন্দেহ হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম জান্নাতুল নাঈম এবং তিনি বিবাহিত।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঘটনার সূত্র ধরে মিজানের জাপান প্রবাসী ভাই আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে ওই প্রবাসী নারীর সাথে পরিচয় হয় মিজানের। গত ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। এ সময় জামানত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও মুঠোফোন রেখে ১ অক্টোবরের মধ্যে বাকি ১৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন মিজানুর রহমান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত না দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর শ্বশুর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করেন। এ ঘটনায় তিনি নালিতাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ওই প্রবাসী নারী বলেন, ‘মুসলিম হয়েও হিন্দু সেজে নাঈম আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা ও আইফোন নিয়েছে। টাকা ও ফোন পাঠানোর সব প্রমাণ আমার কাছে আছে।’ তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারসহ তাঁকে চাপের মুখে পড়তে হবে—এমন আশঙ্কায় বন্ধু আরিফুলের (জাপান প্রবাসী) ভাই মিজানের সহযোগিতা নিয়েছিলেন। তিনি টাকা ফেরত ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জান্নাতুল নাঈম ও তাঁর শ্বশুরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিপ্লব দে কেটু,শেরপুর
শহীদ