৮ কার্তিক ১৪৩৩ , শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মরিচখেতে পানি দেওয়ার  ভিডিও করায় ৭ জনকে পিটিয়ে জখম

মাসুদ উল হাসান, বকশীগঞ্জ, জামালপুর 

প্রকাশ: ২২:৪৪,২২ অক্টোবর ২০২৬

মরিচখেতে পানি দেওয়ার  ভিডিও করায় ৭ জনকে পিটিয়ে জখম

ছবি: নিউজমিশন২৪

জামালপুরের বকশীগঞ্জে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে মরিচ খেতে পানি দেওয়ার সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নূর ইসলাম নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ১৯ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বালুগ্রাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালুগ্রাম গ্রামের আব্দুর রশিদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী শাহ আলমের পরিবারের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মরিচখেতে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় শাহ আলমের স্ত্রী সেখানে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিও ধারণের কারণ নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। এ সময় আব্দুর রশিদের পরিবারের সদস্যরা ভিডিও ধারণে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এর জেরে শাহ আলমের পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রশিদের পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একই পরিবারের সাতজন আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের ময়মনসিংহে স্থানান্তর করা হয়। গুরুতর আহত রুস্তম আলী (৩৫) ও আলমাস আলী (৩৫) বর্তমানে ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নূর ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় শাহ আলম, সোনা মিয়া, আকরাম হোসেন, আমজাদ আলী, হযরত আলী, রাজা মিয়া, আক্তার হোসেন, আব্দুল্লাহ, শাকিল মিয়া, বাবু মিয়া, ফকির আলী, আকিত মিয়া, হুনুয়া বেগম, শাহানা বেগম ও ধুলি বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা তাঁদের মরিচ খেতে প্রবেশ করে মরিচের চারা ভেঙে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে তা তুলে নিতে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে খুন-জখমের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শহীদ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: