চিতলমারীতে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে কোডেক এর মাঠ দিবস
অরুণ কুমার সরকার, চিতলমারী, বাগেরহাট
প্রকাশ: ১১:২৭,১৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: নিউজমিশন২৪
বাগেরহাটের চিতলমারীতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার সুরশাইল গ্রামে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশন প্রজেক্টের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মাঠ দিবসে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, বাড়ির আঙিনায় জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ এবং পরিবেশবান্ধব জীবিকায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোডেকের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আ ন ম ওয়াহিদ।
প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার মো. সাব্বির তালুকদার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি খাত নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জীবিকার সুযোগও বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বেড, বস্তা ও মাদা পদ্ধতিতে সবজি চাষ, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার এবং জৈবসার প্রয়োগের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বাড়ির আঙিনায় জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা ও প্রকল্পের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার মো. জুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং চিতলমারী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৩০টি সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ পরিবারের পুষ্টিচাহিদা পূরণে সহায়ক। অন্যদিকে জৈব কৃষিপদ্ধতি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে। কৃষকদের মধ্যে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রকল্পের ফিল্ড অর্গানাইজার মিনারা খাতুন মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষির প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতন করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে এবং গ্রামীণ পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও টেকসই জীবিকার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
শহীদ